ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করতে কোনো কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। বৃহস্পতিবার দেশটি এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় কাতারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহ তদন্তের জন্য দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ করেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোহলবার্গ। এরপর কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের সঙ্গে কাতারের সংশ্লিষ্টতার দাবি তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দোহার পক্ষ থেকে এ অস্বীকৃতি জানানো হলো।
বিবৃতিতে আল-আনসারি আরও বলেন, ইসরায়েলে নির্বাচনের পর যে সরকারই গঠিত হোক, তাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ কাতারকে মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
এদিকে, ইসরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।
১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে কোনো প্রধান জোটই এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব আইনপ্রণেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।